অগ্নিকাণ্ড লইয়া বারংবার সতর্কতামূলক রিপোর্ট প্রকাশ করিলে কি আদৌ কোনো লাভ হয়

Monday, February 25th, 2019

অগ্নিকাণ্ড লইয়া বারংবার সম্পাদকীয় লিখিলে, সতর্কতামূলক রিপোর্ট প্রকাশ করিলে কি আদৌ কোনো লাভ হয়? যাহাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, তাহারা কি এইসকল লেখা কিংবা প্রতিবেদন পড়েন? পড়িয়া সতর্ক হন? কিংবা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে তাহাদের নিজেদের জীবন ও সম্পদের প্রতি কি কোনো ভালোবাসা নাই? বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ২০১০ হইতে ২০১৮ সাল অবধি প্রাপ্ত পরিসংখ্যান হইতে জানা যায়, দেশে গত ১০ বত্সরে ছোট-বড় অন্তত ১৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়াছে। ইহাতে প্রাণ হারাইয়াছেন ১ হাজার ৫৯০ জন। ফায়ার সার্ভিস বলিতেছে, গত ১০ বত্সরে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটিয়াছিল ২০১০ সালে, পুরাতন ঢাকার নিমতলীতে। ইহাতে নিহত হন ১২৪ জন। ইহার পরের বত্সর সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১১ জন। আর ২০১৬ সালে টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ৪১ জন। সম্প্রতি চকবাজারে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটিল, তাহার কয়েকদিন পূর্বেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিমতলী ট্রাজেডির অনুরূপ পরিবেশেই নয় বত্সর পর বিধ্বংসী আগুন লাগে চকবাজারে।

কেন কীভাবে কী কারণে আগুন লাগে, তাহা প্রায় সকলেই জানেন। কী কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে—তাহাও প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টের লোকজন জানেন। ইহার পরও দুর্ভাগ্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধির মূলে রহিয়াছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলা। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানেরই গ্যাসলাইন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা—তাহা নিয়ম করিয়া যাচাই করা নিশ্চয়ই খুব কঠিন কাজ নহে।