আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৫৫ তম বার্ষিক ওরছ শরীফ

Monday, February 11th, 2019

পলাশ (ব্যুরো প্রধান খুলনা)  ॥ মানবজাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং ইহকালে শান্তি ও পরকালের মাগফিরাত
এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সাতক্ষীরা জেলার
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিশিষ্ট দার্শনিক, সাহিত্যিক, নলতা কেন্দ্রীয়
আহ্ছানিয়া মিশনসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, সুফী-সাধক, পীরে কামেল সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব
গওছে জামান আরেফ বিল্লাহ হজরত শাহ্ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) এঁর ৫৫ তম বার্ষিক ওরছ
শরীফ। গতকাল রবিবার বাদ ফজর থেকে মিলাদ শরীফ ও আলোচানা শুরু হয়ে সকাল সাড়ে ৯ টায় আখেরী মোনাজাত
অনুষ্ঠিত হয়। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি আলহাজ্জ মুহাম্মদ সেলিমউল্লাহ এর সভাপতিত্বে ও নলতা
কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং পাক রওজা শরীফের শ্রদ্ধেয় খাদেম আলহাজ্জ মৌলভী
আনছারউদ্দিন আহমদ’র বিশেষ তত্ত্বাবধানে নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্জ মাওলালা মো. আবু
সাঈদ প্রায় ঘন্টা ব্যাপি আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন। গতকাল আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে নলতা শরীফ
এলাকা ধর্মীয় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। লাখ লাখ মুসল্লির আমিন, আল্লাহুমা আমিন ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে
নলতা শরীফ। মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত
করার জন্য দু’হাত তুলে মহান আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়। এ সময় আমিন, আল্লাহুম্মা
আমিন ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখখরিত করে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায়
লাখ লাখ মুসল্লি আকুতি জানান। এ সময় কারো দুই চোখ ছিল মুদিত, কারো দৃষ্টি ছিল সুদূরে প্রসারিত। আর থরথর
কম্পমান দুই ঠোঁটে মৃদুস্বরে উচ্চারিত হয়েছে আমিন আমিন ধ্বনি। জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তির জন্য, পরম
দয়াময় আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহভিক্ষা করছিলেন তারা। মোনাজাতে নলতা শরীফে লাখ ধর্মপ্রাণ
মুসল্লিদের ঢল নামে। ফজরের নামাজের পরই নলতা শরীফসহ আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্যাটেলাইট টিভি
চ্যানেলগুলো নলতা শরীফের এ বিশেষ মোনাজাত সরাসরি সম্প্রচার করায় বাসাবাড়ি, দোকান, অফিস, আদালত যে
যেখান থেকে পেরেছেন দেশ-বিদেশের মুসলমানরা মোনাজাতে শরিক হন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মোনাজাতে
অংশ নিয়েছেন। আখেরি মোনাজাতের জন্য খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে যে যেভাবে পেরেছে
বসে পড়েন। মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা শুরু করে। আগে
যাওয়ার জন্য মুসল্লিরা তাড়াহুড়ো করতে শুরু করে। এতে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়
দীর্ঘ জন ও যানজট। পবিত্র আখেরী মোনাজাতে অংশ গ্রহন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির
সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমস্ত্রী আলহাজ্জ অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল
হক এমপি, পাক রওজা শরীফের শ্রদ্ধেয় খাদেম আলহাজ্জ মৌলভী আনছার উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের
সভাপতি ও সাবেক জেলা প্রশাসক মনসুর আহমেন, সাবেক যুগ্ম-সচিব ডাঃ মোঃ খলিলুর রহমান, বাংলা একাডেমির
সাবেক পরিচালক ড. গোলাম মাঈনউদ্দীন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট আলহাজ্জ কাজী রফিকুল আলম, নলতা
কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি মোঃ আলী আজম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ মো. আব্দুল মজিদ, যুগ্ম-
সম্পাদক আলহাজ্জ মো. সাইদুর রহমান শিক্ষকসহ কেন্দ্রীয় ও দেশ-বিদেশ থেকে আগত আহ্ছানিয়া শাখা মিশনের
কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ, জেলা, উপজেলা, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার
সাংবাদিকবুন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার পীর কেবলার ভক্তবৃন্দ আখেরী মোনাজাতে অংশত্রহণ করেন।