আস্থা কমছে ব্যাংকের ওপর

Thursday, March 14th, 2019

জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা। গতকাল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে।  ছবি: জনতা ব্যাংকের সৌজন্যেজনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা। গতকাল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে। ছবি: জনতা ব্যাংকের সৌজন্যে

ডেস্ক নিউজঃ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে। মানুষ মনে করে ব্যাংকগুলোতে যে আস্থার জায়গায় ছিল, তা দিন দিন কমছে।

জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী গতকাল বুধবার এসব কথা বলেন। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুছ ছালাম আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকের বাইরে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে এক-দুইটা বাদ দিয়ে বাকিদের কার্যালয়ে ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না। এটাই বাস্তবতা। এতে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা জানি না। সেটা জানার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নিরীক্ষা হবে। তবে কাউকে জেলে পাঠানোর জন্য নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতেই এই নিরীক্ষা করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী বিদেশে পণ্য পাঠিয়ে টাকা না এনে মনের আনন্দে ব্যবসা করছেন, তা হবে না। ব্যাংকের টাকা ফেরত না দিয়ে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। কেউ অপরাধ স্বীকার করলে আমরা সাহায্য করব। যাঁরা ভালো ব্যবসায়ী নানা কারণে বিপদে পড়ে গেছেন, তাঁদেরও সাধ্যমতো সাহায্য করা হবে। সংস্কারমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ব্যাংকের পরিচালক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা চাপে পড়ে, না বুঝে এসব (অপকর্ম) করেছেন কি না, আমি জানি না। ব্যাংকিং যারা বোঝে না, তাদের আমি আর ব্যাংকের বোর্ডে রাখব না। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে যতবার বোঝানো প্রয়োজন আমি বোঝাব। ব্যাংক কোনো খেলার জায়গা না। জানাশোনা লোক না থাকলে ব্যাংক চালানো যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে অনেকে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার জন্য তদবির নিয়ে আসে। আমি সবার সাক্ষাৎকার নেব, এরপরই নিয়োগ হবে। যা হয়ে গেছে, সেভাবে আর হবে না। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দোষীদের বের করা কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার। যদিও অনেকে মনে করেন, তিন থেকে চার বছর আগের ঘটনা বের করা যাবে না।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে মামলা নয়, আলোচনার মাধ্যমে আদায়ে জোর দিতে হবে। আর নতুন করে ঋণ না দিলে সবাই নিরাপদে থাকবেন, এমন চিন্তা করা যাবে না।

ফজলে কবির আরও বলেন, বড় ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ঋণে বেশি নজর দিতে হবে। এতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ঋণ যাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, ‘গত বছর জনতা ব্যাংকে অনেক খেলাপি ঋণ যোগ হয়েছে। ক্রিসেন্ট ও অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণও খেলাপি বৃদ্ধির বড় কারণ। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছ থেকে কেনা রপ্তানি বিল খেলাপি হয়ে গেছে। অ্যাননটেক্স গ্রুপের ২২ প্রতিষ্ঠানকে ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে দেওয়া ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। এসব ঋণের বিষয়ে পর্ষদের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, ‘দুটি গ্রুপের কারণে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। এ জন্য মামলা ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর হবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর।’

সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৭ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা, গত বছর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ওই দুটি গ্রুপের ঋণই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।