এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি নতুন নয়

Wednesday, April 10th, 2019

প্রায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এমনটি দেখা যাচ্ছে।

এ সময় সড়কে গণপরিবহন সংকট থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর যারা গণপরিবহনে ওঠার সুুযোগ পেয়েছেন, যানজটের কারণে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে। এমন অল্প সময়ের বৃষ্টির পর নগরবাসীকে যে ধরনের দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে, আগামী বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় বৃষ্টির পর তা কতটা চরমে পৌঁছাবে, এটাই বড় প্রশ্ন।

রাজধানীর যেসব সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে, সেসব সড়কে যাত্রীদের অতিরিক্ত দুর্ভোগে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার বিকালে বৃষ্টির পর ফার্মগেট, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়াসহ মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের অন্তহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

বৃষ্টির পর ময়লা ও কর্দমাক্ত পানি মাড়িয়েই তাদের চলাচল করতে দেখা যায়। লক্ষ করা যায়, সড়কে কোনো কোনো জায়গার ম্যানহোলের ঢাকনা থাকে না।

সড়কে পানি জমলে ঝুঁকি নিয়েই অনেকে মোটরবাইক চালান, আবার কেউ কেউ মোটরবাইকের যাত্রী হন। সোমবার অফিস শেষে হাঁটুপানির ওপর দিয়ে যারা হেঁটে বাসায় ফিরেছেন, তাদের ১০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের বক্তব্য হল, নগরীর খাল ও নালাগুলোকে সচল করা সম্ভব হলে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। সমস্যার সমাধানে রাজধানীর খালগুলো দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়নে একের পর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলেও অল্প সময়ের বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলবে, এটাই স্বাভাবিক।

প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পলিথিনসহ নানারকম আবর্জনায় নালা-নর্দমার মুখগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ রকম ছোট ছোট সমস্যা বড় হয়েও বিভিন্ন সড়কের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

কাজেই সবাই সচেতন না হলে কেবল ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা কঠিন হবে।