বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে পরীক্ষানির্ভর

Saturday, March 2nd, 2019

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা লইয়া কম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় নাই। কিন্তু তাহার পরও আমরা বাস্তবোচিত শিক্ষা হইতে যোজন পথ দূরে রহিয়াছি। শিক্ষার দুর্বল মানের কারণে বাংলাদেশের একজন শিশুর ১১ বত্সরের স্কুলজীবনের সাড়ে চারটি বত্সর নষ্ট হইয়া যায়। তাহারা ১১ বত্সরে শিখে মাত্র সাড়ে ছয় বছরের পাঠ্যক্রমের সমান! আবার দেশের পঞ্চম শ্রেণির প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর তিনজনই নিজেদের শ্রেণির উপযোগী সাধারণ মানের অঙ্ক কষিতে পারে না। এই তথ্য জানা গিয়াছে বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদন হইতে। বিশ্বব্যাংকের ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট: লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশনস প্রমিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার নেপথ্যে চারটি বড় কারণ চিহ্নিত করা হইয়াছে। তাহা হইল—শৈশব জীবনের মানোন্নয়নে কর্মসূচিগুলির দুর্বলতা, নিম্নমানের পাঠদান, দুর্বল স্কুল ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ কম।

সুতরাং যথাযথ কর্মমুখী ও বাস্তবোচিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের বিকল্প নাই। আশার একটি দিক হইল, ১৯৯০ সালে আমাদের দেশে যেইখানে মাত্র ৬৬ শতাংশ শিশু প্রাথমিক শিক্ষায় নিবন্ধিত ছিল, দেড় দশকে তাহা বাড়িয়া ৯১ শতাংশ হইয়াছে। এখন প্রয়োজন এই সকল শিশুর যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।