সীমান্ত নিরাপত্তায় ঐকমত্য যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থা ঠেকাতে!

Tuesday, February 12th, 2019

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত। মেক্সিকো প্রান্ত থেকে তোলা। ছবি: রয়টার্সযুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত। মেক্সিকো প্রান্ত থেকে তোলা। ছবি: রয়টার্স

 

ডেস্ক নিউজঃ যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের আরেকটি অচলাবস্থা ঠেকাতে সীমান্ত নিরাপত্তার মূল ইস্যুতে একমত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতারা। এ–সংক্রান্ত একটি চুক্তি নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে ওয়াশিংটনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। তবে বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের আটক ও সীমান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণে অর্থায়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ এখনো একমত হতে পারেনি। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে বাজেট ইস্যুতে বিতর্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক ৩৫ দিন বন্ধ ছিল ফেডারেল সরকারের একাংশের কাজকর্ম (শাটডাউন)। অর্থ বরাদ্দ না পেয়ে ফেডারেল সরকারের আট লাখ কর্মী বিনা বেতনে দিন যাপন করেছেন। এ নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন ফেডারেল কর্মীরা। পরে রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে ২৫ জানুয়ারি ফেডারেল সরকারের চাকা আবার সচল করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে ফেডারেল সরকারকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি অনুসারে কংগ্রেস অর্থ বরাদ্দ না পেলে ফের শাটডাউনের হুমকি দেন তিনি।

রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট দেয়াল নির্মাণে ৫৭০ কোটি ডলার না পেলে কোনো ধরনের বাজেট নথিতে সই করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের নতুন চুক্তিটি নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
গতকাল সোমবার রাতে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এল পাসোতে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, যেভাবেই হোক, তাঁরা দেয়াল নির্মাণ করবেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি পড়ার সময় পাননি তিনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কোনো বিলে তিনি সই করবেন না, যাতে ‘সহিংস অপরাধীদের গণমুক্তি দিতে বাধ্য হতে হয়’।বিলটি শুক্রবারের মধ্যে অনুমোদন না হলে আগের মতো ফেডারেল সরকারের একাংশের চাকা আবারও বন্ধ হয়ে যাবে।

নতুন চুক্তিটি সম্পর্কে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান মধ্যস্থতাকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যে যে ইস্যুতে দুই পক্ষের দ্বিমত ছিল, তা সমাধান করা গেছে বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান জ্যেষ্ঠ সিনেটর রিচার্ড শেলবি। তিনি বলেন, দুই পক্ষের ঐকমত্যের চুক্তি হয়েছে। চুক্তির খুঁটিনাটি সব বিষয় একত্র করার জন্য এখন দুই দলের তরফ থেকে কাজ করা হচ্ছে। এটি আইনে পরিণত হলে সরকারের চাকা বন্ধ হবে না বলে আশা করা যায়।

সূত্রমতে, নতুন চুক্তিতে ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেয়াল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ থাকবে; যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি থেকে অনেক কম। ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে প্রবেশ করে ফেলেছেন, এমন বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের আটকাদেশের ব্যাপারে নমনীয় হতে বলেছেন। আটক অভিবাসীদের সংখ্যা কমানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ সংখ্যা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করে বৈঠকে জানানো হয়, এখন ৪৯ হাজার ৫৭ জন আটক রয়েছেন। এ সংখ্যা ৪০ হাজার ২৫০–এ নামানো হচ্ছে।