হাজারো দর্শনার্থী স্বপ্ননীড়ের সন্ধানে

Thursday, February 7th, 2019

স্বপ্ননীড়ের সন্ধানে হাজারো দর্শনার্থী

পছন্দের প্লট ও ফ্ল্যাটের খোঁজে দর্শনার্থীরা ঘুরছেন মেলায়।

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানী শহরে একটি ফ্ল্যাট নিজের করে নিতে কার না সাধ জাগে? আর কাঙ্ক্ষিত এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অল্প অল্প করে টাকা জমায় মধ্যবিত্তরা। মাসিক খরচের লাগাম টেনে হলেও নিশ্চিত করা চাই স্থায়ী ঠিকানা। রাজধানীবাসীর স্থায়ী এই ঠিকানা খোঁজায় সহায়তা করতে শুরু হয়েছে রিহ্যাব মেলা ২০১৯।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের এই মেলা। প্রথম দিনেই ভিড় জমিয়েছে হাজারো দর্শনার্থী। কারো আগ্রহ ফ্ল্যাটে, কেউ এসেছে প্লটের সন্ধানে আবার কেউ বা অর্থায়ন নিয়ে চিন্তিত। তবে মধ্যবিত্তের আবাসন চাহিদা মেটাতে মেলায় আছে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। রয়েছে বাড়ি তৈরির সামগ্রীও। রিহ্যাব মেলায় এক তাঁবুর নিচেই মিলছে দর্শনার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত যাবতীয় প্রয়োজন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরবাসীর আবাসন চাহিদা মেটাতে এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে ২০২টি স্টল। এসব স্টলে রয়েছে সরাসরি ফ্ল্যাট বা প্লট বুকিং দেওয়ার সুবিধা। বুকিং দিলেই পাওয়া যাচ্ছে মূল্য ছাড়। এ ছাড়া এককালীন মূল্য পরিশোধে রয়েছে বড় অঙ্কের ছাড়। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সহজ কিস্তিতে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার সুবিধা রয়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের। আছে সাধ ও সাধ্য অনুসারে ঢাকার যেকোনো এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং দেওয়ার সুযোগ। ২০টি ভবন নির্মাণসামগ্রী ও ১৪ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে মেলায়। ভবন তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের স্টলে। মিলছে ঋণ সুবিধাও।

রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘এই মেলার জন্য নগরবাসী সারা বছর অপেক্ষায় থাকে। তাদের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি সব সময়। এ বছর আবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ও সরবরাহকারীরাও অংশ নিয়েছে রিহ্যাব আবাসন মেলায়।’

কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক উর্মিলা চৌধুরী এসেছিলেন রিহ্যাব মেলায়। তিনি বলেন, ‘এক ছাদের নিচে আবাসনসংক্রান্ত যাবতীয় সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এখানে। মেলায় না এলে এক দিনে এত কম্পানির প্রকল্প সম্পর্কে জানা হতো না। আজ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ও দাম সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। সরেজমিনে প্রকল্প পরিদর্শন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

ব্যবসায়ীদের মতে, মেলায় অনেকেই সরাসরি বুকিং দিয়ে কিছু আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সব কটি প্রতিষ্ঠান মেলা উপলক্ষে বাড়তি ছাড় দিয়েছে। কিস্তিতে ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে। মেলা থেকে সরাসরি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্রেতা প্রকল্প এলাকার আইনগত বিষয়াদি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা কিস্তিতে প্লট নিতে বেশি আগ্রহী। মেলায় ঢাকার অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে পাশের এলাকায় প্রকল্প রয়েছে। চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তারা এসব প্রকল্প থেকে সহজেই বেছে নিতে পারছে নিজেরটি।

রাকিন ডেভলেপমেন্ট কম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জয়দিপ গাঙ্গুলি বলেন, ‘ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে আসছেন। আমরাও প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি তাদের। তবে প্রথম দিনে বুকিং কম দিচ্ছেন। মেলা থেকে ধারণা নিয়ে সরেজমিন ঘুরে তাঁরা মূলত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

মেলা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।